জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৯৪৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দেশের ৯৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের দরজা-জানালা, লাইট-ফ্যান, বাথরুমের স্যানিটারি এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কাজের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেগুলো সংস্কার করতে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শাহজাহান আলী বলেন, এই সংস্কার কাজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি স্বচ্ছতার সাথে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) থেকে গতকাল রাতে এ সংক্রান্ত ব্যয় মঞ্জুরির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইনান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু ছায়িদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্বাসন’ খাত থেকে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
বরাদ্দকৃত অর্থে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, মেরামত ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনা যাবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পেয়েছে।
তদারকি কমিটি গঠন :
এদিকে বরাদ্দ প্রদানের পাশাপাশি এসব সংস্কার কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (উন্নয়ন-৩) এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে,
জেলা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সদস্য সচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
একই দিন এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের অপর এক আদেশে বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্য সচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
ব্যয়ের শর্তাবলি :
বরাদ্দ আদেশে ব্যয়ের ৬টি শর্তের কথা বলা হয়েছে। শর্তগুলো হলো-
১. নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ এ বরাদ্দের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
২. তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
৩. ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক বিধি-বিধান ও পিপিআর-২০২৫ কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।
৪. ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়/বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম উদঘাটিত হলে এর জন্য ব্যয় নির্বাহকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।
৫. বরাদ্দকৃত এ অর্থ থেকে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া পরিশোধ করা যাবে না।
৬. বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করে অব্যয়িত অর্থ যদি থাকে, তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী বলেন, বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার ফলে এখন দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এই জরুরি সংস্কার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু ছায়িদ চৌধুরী বাসসকে জানান, শুধু নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও মেরামত এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনার কাজে এই টাকা খরচ করা যাবে। অন্য কোনো খাত বা এই টাকা দিয়ে পূর্ববর্তী বছরের কোনো বকেয়া পরিশোধ করা যাবে না।