জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলি কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফাতেমার গলায় প্রথমে রশি পেঁচিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়, পরে বটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মচারী মিলন মল্লিক (২৮)কে বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। র্যাব বলেছে, ফাতেমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার পর রাজি না হওয়ায় মিলন হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও নাইলনের রশি উদ্ধার করা হয়েছে। মিলন আগে নিহতের বাবা সজিব মিয়ার রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন এবং গত দুই মাস ধরে পুনরায় যোগদান করেন।
৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লক, ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মিলনকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি বাগেরহাট সদরের মান্ডা বাশখালীতে।
র্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, মিলন ফাতেমার বাবার রেস্তোরাঁর কর্মচারী হওয়ায় বাসায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে তিনি বাসায় প্রবেশ করে এবং কিছুক্ষণ পর বের হয়ে যান। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে আবার বাসায় প্রবেশ করে ২০ মিনিটের মধ্যে ফাতেমাকে হত্যা করেন।
র্যাব জানায়, হত্যার আগের রাতে মিলন খাবার নিয়ে গিয়ে ফাতেমাকে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়, রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেন। ঘটনার সময় নাইলনের রশি ও রান্নাঘরের বটি ব্যবহার করা হয়। হত্যার পর বাসা তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালানোর কথা মিলন স্বীকার করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের সময় মিলনের পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি, ব্যবহৃত বটি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, হত্যার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তা তদন্তে স্পষ্ট হবে।