সেপ্টেম্বর ১, ২০২১, ০৫:১৮ পিএম
সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর ব্রাজিলের বিজ্ঞানীরা দাবি করছে, ওই অঞ্চলের এক ধরনের সাপের বিষে এমন একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা করোনাভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম।
‘মলিকিউলস’ নামে একটি বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন গবেষক এ নিয়ে গবেষণা করছিলেন।
তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন, সাপের বিষে থাকা বিশেষ একটি উপাদান প্রাণীকোষে করোনার সংক্রমণ থামাতে পেরেছে। গবেষকরা অবশ্য এই পরীক্ষা করেছিলেন ব্রাজিলের এক বিশেষ প্রজাতির সাপের বিষ নিয়ে। বাঁদরের কোষে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল বিষের ওই উপাদান। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই প্রয়োগে প্রাণীকোষে করোনা ভাইরাসের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।
সাধারণত প্রাণীকোষে প্রবেশের পর নিজের সংখ্যাবৃদ্ধি করেই সংক্রমণ ছড়ায় করোনা ভাইরাস। সংখ্যাবৃদ্ধির সেই হার ৭৫ শতাংশ কমিয়ে এনেছে সাপের বিষে থাকা ওই উপাদান।
ব্রাজিলের ওই সাপের নাম জারারাকুস্সু পিট ভাইপার। প্রকৃতিগত ভাবে মারাত্মক বিষধর। তারই বিষের একটি অণু-উপাদান করোনা ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ এক স্পাইক প্রোটিনকে অকেজো করতে পারছে বলে দাবি সাও পাওলোর গবেষকদের।
গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, করোনাকে থামাতে পেরেছে জারারকুস্সুর বিষে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি শৃঙ্খল। এই শৃঙ্খল করোনা ভাইরাসে থাকা এক ধরনের এনজাইমের সঙ্গে নিজেকে জুড়ে দেয়। ওই এনজাইমের নাম পিএল প্রো। প্রাণীকোষের ভিতর করোনা ভাইরাসকে সংখ্যায় বাড়তে সাহায্য করে এই এনজাইমই। অ্যামিনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল একে অকেজো করতে পারে বলে দাবি।
বিষয়টি নিয়ে অবশ্য এখনও অনেক গবেষণাই বাকি। জারারাকুস্সুর বিষের ওই বিশেষ অণু উপাদান কতটা পরিমাণে কী ভাবে দেওয়া হতে পারে, কতটা প্রয়োগ করলে শরীরের ক্ষতি হবে না— এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও জানা যায়নি। এর পাশপাশি বিজ্ঞানীরা আরও একটি বিষয়ও জানার চেষ্টা করছেন। তা হল, করোনা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর তাকে ঠেকানোর ক্ষমতা যেমন আছে তেমনই প্রাণীকোষে করোনার প্রবেশও কি আটকাতে পারবে ওই উপাদান? গবেষকরা জানিয়েছেন, জবাব পেলে তবেই পরীক্ষামূলক ভাবে মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে উপাদানটি।
প্রসঙ্গত, জারারাকুস্সু ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বড় সাপ। সেই মহাদেশের অতলান্তিক উপকূলের অরণ্যের বাসিন্দা এই সাপ দৈর্ঘ্যে কম করে ৬ ফুট।
সূত্র: আনন্দবাজার।