হসপিস কেয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩, ১০:৪৬ এএম

হসপিস কেয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। ৯৮ বছর বয়সী জিমি কার্টার এখন জর্জিয়ার প্লেইনসে নিজ বাড়িতে হসপিস কেয়ারে আছেন।  

স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা সিএনএন কার্টার সেন্টারের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

হসপিস কেয়ার হলো এমন চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে, রোগী তার অন্তিম মুহূর্তে থাকেন এবং সে সময় চিকিৎসার মাধ্যমে তার শারীরিক যন্ত্রণা এবং অস্বস্তি কমানো হয়।

কার্টার সেন্টার বিবৃতিতে জানায়,বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট পরিবারের সাথে বাড়িতে তাঁর অবশিষ্ট সময় কাটাতে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা হস্তক্ষেপের পরিবর্তে হসপিস কেয়ারে যত্ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জিমি কার্টারের এমন সিদ্ধান্তে তাঁর পরিবার এবং মেডিকেল টিম সমর্থন জানিয়েছে। তারা এই মুহূর্তে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের পাশে একান্ত সময় কাটাচ্ছেন এবং তাঁর ভক্তদের উদ্বেগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন প্লেইনসে। সেখান থেকে এসে জিমি কার্টারের নাতি এবং কার্টার সেন্টারের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জেসন কার্টার এক টুইটে লেখেন, ‘এইতো গতকালই আমার দাদা-দাদি উভয়কে দেখে এলাম। তারা নিজ বাড়িতে পরিবারের সাথে পরিপূর্ণ ভালোবাসায় সময় কাটাচ্ছেন।’ 

জিমি কার্টার বেশ কয়েকবার পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন । ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাঁর মুখে সেলাইও পড়ে। এর আগে ওই বছরের মে মাসে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে গেলে অস্ত্রোপচার করতে হয়।

কোভিডের সময় থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। 

এর আগে ২০১৫ সালে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের যকৃতে ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার ধরা পড়ার ছয় মাস পর কার্টার জানান, তার আর চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। ওষুধ গ্রহণ করেই তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

সর্বশেষ গত অক্টোবরে জিমি কার্টারের ৯৮তম জন্মদিন পালন করা হয়। 

১৯৭৬ সালে জেরাল্ড ফোর্ডকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এই সাবেক ডেমোক্র্যাট। ৫ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৮০ সালে পুনর্নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে হেরে যান তিনি। এই পরাজয়ই মূলত তাকে বিশ্বে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যমী করে তোলে।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কার্টার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। ১৯৮২ সালে কার্টার সেন্টার গড়ে তোলেন জিমি কার্টার এবং তাঁর স্ত্রী রোজলিন (৯৫)। বিশ্বজুড়ে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃত হিসেবে ২০০২ সালে নোবেল পায় প্রতিষ্ঠানটি। 

২০২২ সালে কার্টার সেন্টারের ৪০ বছর পূর্তিও উদ্‌যাপন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কার্টার সেন্টার অন্যতম অগ্রগণ্য একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কার্টার সেন্টার আফ্রিকা এবং এশিয়ার দেশগুলোতে সবমিলিয়ে ১১৩টি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে। 

Link copied!