নির্বাচনের আগের সাত দিন টার্গেট বিএনপির

অরিন সুলতানা

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৩, ০৯:২৭ এএম

নির্বাচনের আগের সাত দিন টার্গেট বিএনপির

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগের সাত দিনকে টার্গেট করেছে  বিএনপি। আন্দোলনে সফলতা আনতে সকল পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করবে দলটি। জনগণের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে গণসংযোগ কিংবা জনইস্যুতে কর্মসূচি যেমন থাকবে, তেমনি   কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। হরতাল-অবরোধের বাইরে অন্য ধরনের কর্মসূচি দেওয়া যায়  কিনা তাও চিন্তা করছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তাদের ভাবনায় রয়েছে  গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাও, নির্বাচনের আগের দিন থেকে ‘গণকারফিউ’ দেওয়া। এর বাইরেও আলোচনায় রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এখনই সেসব বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি না কেউ। 

তবে যুবদলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগের সাত দিনে তারা অলআউট আন্দোলনে যাচ্ছেন। এর আগে মাঠ প্রস্তুত করতে সব আয়োজন শেষ করছেন সিনিয়র নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএন‌পির  নির্বাহী ক‌মি‌টির একজন নেত্রী জানান, এই  সরকারের অধীনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে দলের হাইকমান্ড প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। তিনি নেতাকর্মীকে আশ্বস্ত করছেন।  হাইকমান্ড থেকে তাদের  আরেকটু ধৈর্য ধারণ করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে বলেও তৃণমূল নেতাকর্মীকে বার্তা দিচ্ছেন। 

এই নেত্রী জানান, দলের বেশিরভাগ সিনিয়র নেতা এই কর্মসূচী নিয়ে খুশী । তারাও বিশ্বাস করেন, আন্দোলনের ফসল এবার তারা ঘরে তুলতে পারবেন। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন, অন্যদিকে দেশে-বিদেশে চাপের মুখে সরকার নতি স্বীকারে বাধ্য হবে। 

গত ১৫ বছর আন্দোলন করে যে দাবি তারা আদায় করতে পারেনি, ৭ দিনের মধ্যে কীভাবে তা করবে, তা স্পষ্ট করে বলেননি বিএনপির এই নেত্রী।

রাজপথের যুবদল ও ছাত্রদল ও  সমমনা দলের নেতারা জানান, ‘বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হারানোর কিছু নেই। মামলা-হামলার শিকার নেতা-কর্মীরা নিজেদের প্রয়োজনেই মুক্তির মিছিলে অংশ নিচ্ছে । সেখানে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলে আমাদের শক্তি কমেনি , আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আমাদের বড় শক্তি। আমরা তার নির্দেশেই চলবো।’

তারা জানান,  এখন সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৮ ডিসেম্বরের পর থেকে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবেন। সেই আন্দোলনে যার যেখানে যেটুকু সক্ষমতা আছে, তার পুরোটাই প্রয়োগের সিদ্ধান্ত রয়েছে । এর পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে। যাতে আন্তর্জাতিকভাবে এই আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং সমর্থন করেন। 

দলের কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে , ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনে জনগণের সমর্থন আদায়ে এবং তাদের ভোটদানে বিরত রাখতে গণসংযোগের মতো কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অবরোধ কর্মসূচিও চলবে। তবে ২৯ -৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তারা টানা কর্মসূচিতে প্রবেশ করবেন। সেই কর্মসূচিকে সফল করতে ‘মরণপণ’ চেষ্টা করবেন তারা। তবে আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাও, নির্বাচনের আগের দিন থেকে ‘গণকারফিউ’ কিংবা আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে তারা মাঠে নামবেন। একযোগে অসহযোগ ও গণকারফিউ মোকাবিলা করে সরকারের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তারা। 

Link copied!