সাত দশক ধরে দর্শক ও সমালোচক হৃদয় তৃপ্ত করেছেন তিনি। তাঁর জাদুমাখা কণ্ঠে মোহিত হয়েছে শ্রোতাদের মন। মৃত্যুর পরেও যিনি অক্ষয়। হ্যাঁ দর্শক, বলছি কিংবদন্তী শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের কথা। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন।
জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীর অনেক বিষয়ই সবার কাছে জানা। আবার কিছু বিষয় আছে, যা অনেকেই জানেন না। লতা মঙ্গেশকরের এমনই কিছু অজানা বিষয় নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।
‘লতা’ হলেন যেভাবে
লতা মঙ্গেশকরের নাম শুরুতে ‘লতা’ ছিল না। জন্মের পর তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হেমা’। বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের ‘ভাও বন্ধন’ নাটকে লতিকা নামের একটি বিখ্যাত চরিত্রের নাম অনুসারে মেয়ের নাম দেন ‘লতা মঙ্গেশকর’।
মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে আসা
শিল্পী লতা মঙ্গেশকর সম্পর্কে আরেকটি তথ্য অনেকেই জানি না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশে আসেন লতা এবং বিভিন্ন স্থানে গান পরিবেশন করেন। ১৯৭২ সালে মমতাজ আলী ‘রক্তাক্ত বাংলা’ নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা চলচ্চিত্রে ‘ও দাদাভাই’ গানটিও গেয়েছেন তিনি।
গানের যত সম্ভার
প্রায় ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন। এর মধ্যে আছে বাংলাও। ‘প্রেম একবার এসেছিল নীরবে’, ‘আষাঢ়–শ্রাবণ মানে না তো মন’, ‘ও মোর ময়না গো’, ‘ও পলাশ ও শিমুল’, ‘আকাশপ্রদীপ জ্বেলে’সহ অনেক বিখ্যাত বাংলা গানের কণ্ঠ তাঁর।
শাস্ত্রীয় থেকে রোমান্টিক- সবক্ষেত্রেই বিচরণ তাঁর
ভারতের প্রধান সুরকারদের প্রায় সবার সঙ্গেই কাজ করেছেন লতা। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে রোমান্টিক গান, এমনকি ভজনও গেয়েছেন।
সুরের দেবী
লতা মঙ্গেশকর অর্ধশত বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভারতের ৩৬টি ভাষায় প্রায় ৩০ হাজার গান গেয়েছেন। ধ্রুপদি, গজল, ভজন গানের প্রতিটি ধারায় স্বচ্ছন্দ বিচরণ তাঁর।
লতা মঙ্গেশকর ভারতে জন্ম নিলেও তাঁর সংগীত ভারত ছাপিয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বসংগীতের দরবারে। জন্মদিনে রইলো শিল্পীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।