একুশে প্রশ্নবিদ্ধ দুইশতাধিক মৃত্যু

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ডিসেম্বর ৩১, ২০২১, ০৫:৪২ পিএম

একুশে প্রশ্নবিদ্ধ দুইশতাধিক মৃত্যু

২০২১ সাল শুরু হয়েছিল পূর্ববর্তী বছরের কোভিড সংক্রমণের ধারাবাহিকতা নিয়ে। এরপর নানা চড়াই উৎরাই এর মধ্য দিয়েই গেছে বছরটি। ইতিবাচক নেতিবাচক নানা ঘটনার মিশেল ছিলো বছরটিতে। তবে এর মধ্যে আলোচিত ছিলো বছরজুড়ে একাধিক সহিংসতা। আশা প্রত্যাশা পূরণে প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে এ বছরের অনেক ঘটনা। সারাদেশে ২০২১ সালে নানান সহিংসতায় ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিকার হয়নি

প্রথম ধাপে দুই ভাগে নির্বাচন হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগের নির্বাচন হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। মূলত তখন থেকেই সারা দেশে নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাতময় পরিস্থিতি দেখা দেয়। প্রথম ধাপে ৫ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৩০ ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ২৪ জন নিহত হন। চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি, ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে নরসিংদীতে। ওই জেলায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেই মারা গেছেন নয়জন।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও পুলিশী হেফাজতে মৃত্যু

আসক'র হিসেবে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা পাওয়া গেছে ৬৭টি। আসক'র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, এ সময়ের মধ্যে র্যাব ২৫টি, পুলিশ ১৯টি, ডিবি পুলিশ ৬টি, নৌপুলিশ ১টি এবং বিজিবি ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

প্রথম সারির কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে আসক। সে হিসেবে দেশে প্রতি মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ৬টিরও বেশি। আসক'র মাস-ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারের আগে 'ক্রসফায়ারে' ২টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের আগে 'ক্রসফায়ারে' ৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। মার্চে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ৫টি। 

এপ্রিলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ১০টি।  মে মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ৬টি। জুনে গ্রেপ্তারের আগে 'ক্রসফায়ারে' হত্যাকাণ্ড ঘটে ২টি। জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের আগে 'ক্রসফায়ারে' হত্যাকাণ্ড ঘটে ৬টি।  আগস্টে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ৬টি। সেপ্টেম্বরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ৪টি। অক্টোবরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ৭টি। নভেম্বরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে ১২টি। 

কারাগারেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে 

আসক'র হিসেবে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কারা হেফাজতে ৭৮ আসামির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে বিচারাধীন ৫২ হাজতি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ কয়েদি রয়েছেন।

এদের মধ্যে ঢাকায় ৩৯ জন (২৬ হাজতি, ১৩ কয়েদি), চট্টগ্রামে ১৪ জন (১১ হাজতি, ৩ কয়েদি), রাজশাহীতে ৬ জন (৪ হাজতি, ২ কয়েদি), খুলনায় ৩ জন (১ হাজতি, ২ কয়েদি), বরিশালে ৩ হাজতি, সিলেটে ৫ জন (৩ হাজতি, ২ কয়েদি), রংপুরে ১ কয়েদি এবং ময়মনসিংহে ৭ জন (৪ হাজতি, ৩ কয়েদি) মারা যান।

গুমের অভিযোগ আছে এখনও

আসক জানায়, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ৬ জনের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আসক'র বিবরণীতে জানানো হয়, তাদের মধ্যে ১ জন চাকরিজীবী, ২ জন ব্যবসায়ী, ২ জন শিক্ষার্থী (মাদ্রাসার ১ জন) এবং ১ জন ইমাম রয়েছেন।

Link copied!