বিদায় নিয়েছে ২০২১। নতুন প্রত্যাশায় আসছে ২০২২। পুরনো বছরের আনন্দ-বেদনাগুলো সঙ্গে নিয়েই নতুন বছরে পা রাখবো আমরা।
২০২১ এ অনেক গুণীজনই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা জানি, মৃত্যু অবধারিত। তবে কিছু মানুষের প্রস্থান বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ২০২১ এমন অনেক বিশিষ্টজনকেই হারিয়েছি আমরা।
সারাহ বেগম কবরী
এ দেশের সিনেমায় সারাহ বেগম কবরী একটি বড় অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন। বাংলাদেশের সিনেমাকে যারা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। গত ৫ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ১৭ এপ্রিল ভোররাতে ৭০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
এটিএম শামসুজ্জামান
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। তারও আগে সিনেমায় চিত্রনাট্য ও সহকারী পরিচালক হিসেবে পথচলা শুরু হয়েছিল তার। আরও পরে এসে শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। কালজয়ী কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। শেষ জীবনে শুধু টেলিভিশন নাটকেই অভিনয় করতেন। একুশে পদক পাওয়া বরেণ্য এই শিল্পী গত ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
ওয়াসিম
ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওয়াসিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে মারা যান গত ১৮ এপ্রিল। এক সময় রাজকীয় সিনেমা মানেই ছিল ওয়াসিমের সরব উপস্থিতি ছিল। ১৯৭৩ সালে মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
কখনো অ্যাকশন, কখনো ফোক, আবার কখনো রোমান্টিক—সব ঘরানার সিনেমায় নিজেকে যোগ্য নায়ক হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন তিনি।
ফকির আলমগীর
একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের ছিল বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। গানে গানে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ফকির আলমগীর গত ২৩ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ড. ইনামুল হক
অভিনেতা, নির্দেশক ও নাট্যকার ড. ইনামুল হকের সুনাম ছিল শিক্ষক হিসেবেও। দীর্ঘ ৪ দশক তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক ছিলেন। তার লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। গত ১১ অক্টোবর তিনি দেহত্যাগ করেন।
মিতা হক
এ দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে প্রিয় একটি নাম মিতা হক। বিশেষ করে, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী হিসেবে তিনি বড় একটি জায়গা নিয়ে ছিলেন সব বয়সী শ্রোতাদের কাছে। গত ১১ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এসএম মহসীন
একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা এসএম মহসীন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ এপ্রিল মারা যান। মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের গুণী অভিনেতা ছিলেন তিনি। এসএম মহসীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্য বিভাগ অনুষদের সদস্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও জাতীয় থিয়েটারের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘রক্তে ভেজা’ ও ‘কবর’ এবং মুনীর চৌধুরী পরিচালিত ‘চিঠি’ নাটকে অভিনয় করেন এসএম মহসিন। ‘পদক্ষেপ’র মধ্য দিয়ে তিনি রেডিও নাটকে আত্মপ্রকাশ করেন।
জানে আলম
জানে আলমের একটি গান খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। গানটি হচ্ছে ‘একটি গন্ধমেরও লাগিয়া’। এ ছাড়া, আরও অসংখ্য গান করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন শিল্পী হিসেবে। গত ২ মার্চ তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে বিদায় নেন।
মাহমুদ সাজ্জাদ
মাহমুদ সাজ্জাদ ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সিনেমা দিয়ে। ‘ঝড়ের পাখি’, ‘আপন পর’, ‘সংসার’, ‘চোখের জলে’ সিনেমায় অভিনয় করে বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন।
পরে তিনি মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকেই বেশি অভিনয় করেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ অক্টোবর তিনি মারা যান।
এ ছাড়াও, গত ৮ মার্চ মারা যান নায়ক শাহীন আলম, ১৩ এপ্রিল মারা যান সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ, ২১ অক্টোবর মারা যান নাট্যকার, নাট্যপরিচালক ও অভিনেতা কায়েস চৌধুরী ও ২২ অক্টোবর মারা যান অভিনেতা শামীম ভিস্তি।