শেষ বলে যখন পাকিস্তানের ২ রান দরকার তখন বোল্ড হন পাকিস্তানের ব্যটসম্যান মোহাম্মদ নাওয়াজ। মাহমুদউল্লাহ বল ছাড়ার সময়ও তিনি ছিলেন প্রস্তুত। বল ছাড়ার পরও তাকে অপ্রস্তুত দেখায়নি। কিন্তু বল পিচড হওয়ার পর একদম শেষ মুহূর্তে আচমকা সরে যান তিনি। এরপর আম্পায়ার তানবীর আহমেদ ডেড বল দিলে কারণ জানতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। এ সময় প্রতিপক্ষ ব্যাটার ও আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মাহমুদউল্লাহকে। পরে ডেড বল মেনে নেন তিনি।
বলটা কি ডেড বল
প্রশ্ন উঠেছে, নাওয়াজ সময়মত না খেলার আপত্তি জানিয়েছিলেন কিনা। বলটি বৈধ হলেই তো ম্যাচের ফল হয় ভিন্ন। ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, এটি নিয়ে তাদের আপত্তি থাকলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন তারা, একদম শেষ মুহূর্তে সে সরে গেছে। তো আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম বলটা বৈধ কিনা। (আম্পায়ার ডেড বল দেন)। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।
সাধারণত বল ডেলিভারির আগে সমস্যা হলে না খেলার আপত্তি জানাতে পারেন কোন ব্যাটার। বোলার তখন বল ছুঁড়লেও ব্যাটারের অবস্থা দেখে আম্পায়ার ডেড বল কল করতে পারেন। কিন্তু বল ডেলিভারি করার পর পিচডও হয়ে গিয়েছিল, তখন প্রস্তুত অবস্থা থেকে কোন ব্যাটারের হঠাৎ অপ্রস্তুত হওয়ার ঘটনা একদমই বিরল।
নো হবার সুযোগ ছিল কি?
আইসিসির নো বলের নিয়ম দেয়া রয়েছে ২১ নংয়ে। সেখানে ২১ এর ৫ এর ২ ধারায় বলা হয় পপিং ক্রিজের বাহিরে যদি বোলার পা প্রবেশ না করে তাহলে আম্পায়ার নো বল ডাকতে পারেন। তবে মাহমুদউল্লাহর বলে নো ডাকা হয়নি। তাহলে সঙ্গত সেটি নো বল ছিল না। যদিও এর আগে আইপিএলে ব্রাভো ও এন্ডু রাসেল এমন বল করেন। তখন সেটা স্বাভাবিক বল হিসেবেই গণ্য করা হয়।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে এক আম্পায়ার বলেন, এসব পরিস্থিতিতে কি হবে তা আম্পায়ারের এখতিয়ার। মাঠের আম্পায়ার চাইলে যেকোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারতেন।
ওই বলটি বাংলাদেশের পক্ষে না আসায় আরেকটি হতাশার ম্যাচ পার হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের কাছে শেষ বলে গিয়ে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের করা ১২৪ রান টপকে ৫ উইকেটে জিতে সফরকারীরা। তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে বিশ্বকাপ বিপর্যয়ের পর আরেকটি হতাশা যুক্ত হয় বাংলাদেশের।