আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি। কিন্তু হঠাৎ করেই কাউন্সিল নিয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আলোচনা শুরু করছেন। তাদের এই আলোচনার ফলে দলের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল না রাখার কৌশল হিসেবে আগাম কাউন্সিল হতে পারে-এমনটা ভাবছেন অনেকে। তবে যথাসময়েই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত বলে জানিয়েছেন বেশির ভাগ নেতা।
দলকে সুসংগঠিত করতে কি আগাম কাউন্সিল?
আওয়ামী লীগের মত পুরনো ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের আগাম কাউন্সিল নিয়ে এরই মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। দলের আওয়ামীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ওই আগাম কাউন্সিলের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলন ২২ সালের শুরুতেই হবে । ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন সাজাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের কথায় সুর মিলিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন নেতা আগাম কাউন্সিলের কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের এইসব নেতাদের মতে শুধু জাতীয় নির্বাচন নয় বরং ইউনিয়ন পরিষদ(ইপি)নির্বাচনের প্রভাবকে কেন্দ্র করে দলকে সুসংগঠিত করতে এই আগাম কাউন্সিলের পরিকল্পনা নেয়া হতে পারে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এর আগেই সারাদেশে প্রায় ৪ হাজার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ইসি ইঙ্গিত দেয়। এই নির্বাচনকে মাথায় রেখে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। আর এই সময়ের মধ্যে দরকে সুসংগঠিত করতে আগাম কাউন্সিলের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিকল্প নেই বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন।
নাকচ করে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের
মাহবুবউল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল নির্ধারিত সময়ের আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা গণমাধ্যমে জানালেও দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তেমনটি মনে করেন না। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল নিয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন নির্দেশনা দেন নি। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানী এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যদি কোন নেতা আগাম সম্মেলন চান তাহলে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় প্রস্তাবের সুযোগ রয়েছে।
করোনা পরবর্তীতে তৃণমূল চাঙ্গা করতে কি এ সিদ্ধান্ত?
করোনা মহামারির বছরে আয় কমে গেছে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের। ২০২০ সালে দলটির আয় কমেছে ৫১ শতাংশ এবং ব্যয় বেড়েছে ২১ শতাংশ। মহামারীতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অর্থনৈতিক ও সাংগঠিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিধিনিষেধ ও অন্যান্য কারনেও নেতারা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেনি। তাই বর্তমানে শিথিল অবস্থার কারনে ইতোমধ্যে তৃণমূল চাঙ্গা করতে দলের আগাম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা।
তবে আওয়ামী লীগের ওইসব নেতাদের যুক্তির সাথে একমত হতে পারেননি দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান। দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে অনেক জেলার সম্মেলনই যথসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু এখন যেহেতু শিথিল অবস্থায় রয়েছে তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আওয়ামী লীগ আগাম কাউন্সিল নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেনা উল্লেখ করে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়মমাফিক আগামী বছরের ডিসেম্বরেই জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি রয়েছে। আগাম সম্মেলন বা পিছিয়ে যাওয়ার কোন ধরনের সম্ভাবনা এই মুহুর্তে নেই।
আগাম কাউন্সিলের জন্য কতটা প্রস্তুত আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করতে চায় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। তবে করোনার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। দলের সব মিলিয়ে জেলাভিত্তিক ৭৮টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৩০ জেলার সম্মেলন হয়েছে। বাকি ৪৮ জেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।
সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়ার কারণে আগামী ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বৈঠক ডেকেছে দলটি। দেশব্যাপী জেলা সম্মেলনের ক্ষেত্রে ১০ টি কমিটি করা হয়েছে। এদিন জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক সব বিষয় উপস্থাপিত হবে বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।