জুলাই ৩১, ২০২৩, ০৯:৫৬ এএম
সংগৃহীত ছবি
আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের রাজনীতি এখন সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ সংঘর্ষে অনেকেই আহত হন। এমতাবস্থায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পূরণে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ওই সংঘর্ষের পুরো চিত্র পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।
চলতি মাসে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ঘোষিত এক দফা দাবিতে বিএনপি বেশ কয়েকবার সমাবেশ, পদযাত্রা, অবস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একই দিনে শান্তি সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে তা পালন করছে। বিএনপির এসব কর্মসূচি চলাকালে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসসহ বিভিন্ ফুটেজ সংগ্রহ করে দলটি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একটি জাতীয় দৈনিককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরই মধ্যে সমাবেশ চলাকালে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের সংঘর্ষের ভিডিও, স্থির তথ্যচিত্রসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে বিএনপি।
এ সংঘর্ষের পুরো চিত্র প্রতিবেদন আকারে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাঠাবে দলটি।
এপ্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলার তথ্য সংগ্রহ করে আমরা বিভিন্ন দূতাবাস ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাঠাই। এটা নিয়মিত ঘটনা। শনিবার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সবকিছু প্রস্তুত হলে আমরা সেগুলো পাঠাব।”
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের আসছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি জনগণের ওপর ভিসানীতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদের এ ভিসানীতির আওতায় আনা হবে।
ভিসানীতিতে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করেন,বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে। গত শনিবারের অবস্থান কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এটা নিঃসন্দেহে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা হিসাবে গণ্য হবে। তাই এবিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিরহাইকমান্ড।