নভেম্বর ৩০, ২০২৪, ০১:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলো ‘ন্যাটোর সুরক্ষার আওতায়’ আনা হলে যুদ্ধের ‘উত্তপ্ত পর্যায়’-এর অবসান ঘটতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার, ৩০ নভেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্কাই নিউজকে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কিকে যখন প্রশ্ন করা হয়, কেবল কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোর জন্য ন্যাটো সদস্যপদ গ্রহণে তিনি সম্মত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘এতে রাজি’ বলে জানান।
‘তবে,’ জেলেনস্কি বলেন, ‘দখলমুক্ত ইউক্রেনকে ন্যাটোর সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে, এবং এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে সীমানাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।’
আপাতত ‘কূটনৈতিকভাবে রাশিয়ার দখলে থাকা পূর্বাঞ্চল’ এই প্রস্তাবের বাইরে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘যদি আমরা যুদ্ধের উত্তপ্ত পর্যায়ের অবসান ঘটাতে চাই, আমাদের দ্রুত ন্যাটোর সুরক্ষায় আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের অংশগুলো আনতে হবে। পরে দখলকৃত অঞ্চলগুলো কূটনৈতিক উপায়ে ফেরত আনা সম্ভব হবে।’
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ন্যাটোর সুরক্ষার আওতায় ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল আনার প্রস্তাব আপাতত তাত্ত্বিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। তিনি নিজেই বলেছেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দেয়নি।
স্কাই নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে জেলেনস্কি প্রশ্ন করেন, দেশের একটি অংশকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেয়ার প্রশ্নই উঠছে কেন? তিনি বলেন, ‘কেবল একটি অংশকে সদস্যপদ দেয়া মানে হবে ইউক্রেনের বাকি অংশকে রাশিয়ার বলে স্বীকৃতি দেয়া।’
‘অনেকেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিচ্ছেন’ উল্লেখ করে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার পুনরায় আক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ছাড়া এটি ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, কেবল ন্যাটো সদস্যপদই এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে।
ইউক্রেনের মিত্ররা দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলেই কেবল দেখালে আগামী বছরের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি।
আরও পড়ুন: সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর অর্ধেক বিদ্রোহীদের দখলে
জানা গেছে, পশ্চিমা মহলে তথাকথিত ‘পশ্চিম জার্মান মডেল’ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিভক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম জার্মানিকে ন্যাটো সদস্যপদ দেয়া হয়েছিল। যদিও এই মডেল নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায় দেশটির হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ’২৪ ঘণ্টার’ মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে এখনো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইউক্রেনের কোন অংশ ন্যাটোর আওতায় আসবে, এমন ভাবনাও এই মুহূর্তে অবাস্তব বলে অনেকে মনে করছেন।
এখন পর্যন্ত যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, এই বিষয়ে ন্যাটোর যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
এদিকে বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর মস্কো দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত মিসাইল দিয়ে রাশিয়ার মাটিতে চালানো অব্যাহত আক্রমণের প্রতিশোধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দুটি তিক্ত শীতকাল অতিক্রম করার পর, ইউক্রেনীয়রা আরেকটি শীতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।