শনিবার ১ অক্টোবর ২০২২
      Beta
ভারতের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি পদে শেষ পর্যন্ত কে জয়ের মালা পরবেন— তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত।ছবি: সংগৃহীত

কে ধরবেন কংগ্রেসের হাল, অশোক নাকি শশী?

The Report মিজানুর রহমান খান
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:১৫:০০ অপরাহ্ন | বিশ্ব

ভারতের রাজনীতিতে অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ২০ বছরের বেশি সময় পর গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ দলটির সভাপতি হতে চলেছেন।

গান্ধী পরিবারের বাইরে সবশেষ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন সীতারাম কেশরী। নরসীমা রাও নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর কেশরীর কাছ থেকেই ১৯৯৮ সালে দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী ১৯ বছর কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ সালে ছেলে রাহুল গান্ধীর হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। সাধারণ নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার দলের ভরাডুবির পর রাহুল ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন।

কংগ্রেস দলের সভাপতির লড়াইয়ে আপাতত রয়েছেন গান্ধী পরিবারের অনুগত অশোক গেহলট আর সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত শশী থারুর। এ পর্যন্ত এই দুইজনের নাম জোরে শোরে আলোচনায় আসছে। ১৭ অক্টোবর হবে এই নির্বাচন।তবে গান্ধী পরিবারের বাইরে কেউ কংগ্রেসের সভাপতি হলেও রাহুল গান্ধী পরামর্শক হিসেবে থাকবেন। জানিয়ছেন গান্ধী পরিবারের অন্যতম সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এমন মন্তব্যে প্রার্থী হতে চাইছিলেন না অশোক গেহলট। ৭১ বছর বয়সী  কংগ্রেসের এই  প্রবীণ নেতা ভাল করেই জানেন,  কংগ্রেস সভাপতি হলেও তাঁকে কাজ করতে হবে সোনিয়া-রাহুলদের ইশারাতেই। অথচ হাত ফসকে রাজস্থানের গদি চলে যাবে বিরোধী শচীন পাইলটের হাতে। তবে শেষ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশ তিনি ফেলতে পারেননি। রাজি হতে হয়েছে ছাত্রাবস্থা থেকেই কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই নেতাকে।

অশোক ১৯৯৮ সাল থেকে তিন দফায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদে আছেন। অবশ্য তিনি চান মুখ্যমন্ত্রিত্ব ধরে রেখে কংগ্রেস সভাপতি হতে। যদি নিতান্তই সেটা না হয়, তাহলেও তার ঘনিষ্ঠ কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করতে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে ঘুরে ঘুরে ত্রাণ বিতরণ করেছিলেন অশোক। শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষকেও সংগঠিত করেছিলেন তিনি। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চোখে পড়ে যান অশোক। এরপর থেকেই রাজনীতিতে তার উত্থান শুরু।

কংগ্রেসের সভাপতি পদে প্রার্থী হতে দৌঁড়ঝাপ করছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরও। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি পদে কাজ করা শশী থারুরের বয়স ৬৬ হলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি করেছেন দেড় দশকেরও কম সময়।

শশী থারুর ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা যেমন নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ানে কলামিস্ট এবং লেখক হিসাবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার  একটি পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। সম্প্রতি  হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ভূপেন্দ্র হুডার ছেলে দীপেন্দ্র এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতা জয়প্রকাশ আগারওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন।

কংগ্রেসের একটি সূত্র জানায়, থারুর সভাপতি পদের নির্বাচনে লড়ার জন্য সোনিয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। সোনিয়া তাকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন। কংগ্রেস নেত্রী জানান, সভাপতি পদে ভোটাভুটি হবে। কোনো প্রার্থী এখনো ঠিক করা নেই। 

অশোক নাকি শশী? ভারতের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি পদে শেষ পর্যন্ত কে জয়ের মালা পরবেন— তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত।