জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং পূর্বে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরাও চরম দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। হোটেল মালিকরা নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করছেন না। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধানও উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের জোরপূর্বক ১২–১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে।
আক্তারুজ্জামান খান আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রি-পক্ষীয় ও দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলেও প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি, যা শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি বলেন, গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রি-পক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও সরকার ও মালিক পক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই সারাদেশের সংগঠনসমূহকে নিয়ে গঠিত সংগ্রাম পরিষদ দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে ১৪ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
পরিষদের আহ্বায়ক আরও জানান, সরকার ঘোষিত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর তা আইনের রূপ নেয় এবং বাস্তবায়নের দায় রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর বর্তায়। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নির্ধারণসহ অন্যান্য বিধান কার্যকর না হওয়ায় শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং স্টার গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মনির হোসেন।