বুধবার ৬ জুলাই ২০২২
      Beta
মমতাকে আকাদেমি পুরষ্কার

পশ্চিমবঙ্গে সাহিত্যিক সমাজে সমালোচনার ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ ০৯:০১:০০ অপরাহ্ন | আর্টস

রবীন্দ্র-জয়ন্তীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে বিশেষ সম্মান তুলে দিয়েছে বাংলা আকাদেমি। আর এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে জুড়ে বিতর্ক। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা নিয়েও। আর এর মধ্যেই অন্নদাশঙ্কর সম্মাননা ফিরিয়ে দিয়েছেন লেখিকা ও গবেষক রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান দেওয়ার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, একই কারণে সাহিত্য অকাদেমির বাংলা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লেখক এবং সম্পাদক অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস।

২০১৯ সালে বাংলা আকাদেমির তরফে অন্নদা শঙ্কর রায় স্মারক দেওয়া হয় রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সেই পুরস্কারই ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন লেখিকা ও গবেষক রত্না রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ''মহাশয়, আমি রত্না রশীদ ব্যানার্জী ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির তরফ থেকে অন্নদা শঙ্কর রায় স্মারক সম্মানে ভূষিত হয়েছিলাম। আমি তখন সেই সম্মান সকৃতজ্ঞ চিত্তে গ্রহণ করি। গতকাল সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে আমি অবহিত হলাম যে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি একটি নতুন পুরস্কার ঘোষনা করে প্রারম্ভিক বছরের সেই পুরস্কার পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অর্পণ করেছে বাংলা সাহিত্যে তাঁর নিরলস সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে।

এই অভিধার চেয়ে বড় সত্যের অপলাপ হতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীকে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি শুধুমাত্র একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে তাই নয়, এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সত্যিকারের নিরলস চর্চায় রত সমস্ত মানুষকে অপমানিত করেছে।

এই অবস্থায় ২০১৯ সালে এই সরকারের আমাকে দেওয়া সম্মান আমার কাছে কাঁটার মুকুটের মত প্রতীয়মান হচ্ছে। আমি এই চিঠির মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই আমাকে দেওয়া অন্নদা শঙ্কর স্মারক সম্মান ফিরিয়ে দিচ্ছি। ওই সম্মানের সঙ্গে দেওয়া স্মারক আমি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির ঠিকানায় অনতিবিলম্বে পাঠিয়ে দেবো। ইতি--- রত্না রশীদ ব্যানার্জী, বর্ধমান''

শুধু বিবৃতিই নয়, এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে লেখিকা জানিয়েছেন, বাংলা আকাদেমি অবিবেচকের মতো কাজ করেছে। যোগ্য বলে বাংলা অ্যাকাডেমি ওই সম্মান আমাকে দিয়েছিল। কিন্তু তা আমি ফিরিয়ে দেব। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রত্না রশীদ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বইয়ের তো একটা মান থাকতে হবে।

মঙ্গলবার রত্না জানিয়েছেন, যে ভাবে বাংলা আকাদেমি এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার। তিনি বলেন, ‘‘উনি এক জন মান্যগণ্য মানুষ। উনি আমাদের সবার ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ওঁর কাছ থেকে পরিপক্ব সিদ্ধান্ত আশা করি। বইয়ের তো একটা স্ট্যান্ডার্ড (মান) থাকতে হবে। পুরস্কার দিলেই উনি নিয়ে নেবেন কেন!’’

অন্য দিকে, আন্দামান থেকে অনাদি জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে বাংলা কবিতাকেই অসম্মান করেছে কলকাতা। তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রনাথকে বুকের মাঝে রেখেছি। তাঁর কবিতা আমার কাছে দুর্মূল্য। সেই কবির জন্মদিনে যদি এমন পুরস্কার দেওয়া হয় কবিতার নাম করে, তা হলে তা সামগ্রিক ভাবে কবিতাকেই অসম্মান করে। তারই প্রতিবাদে আমি সাহিত্য অকাদেমির বাংলা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।’’