জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তিন অটোরিকশা যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে অর্থের বিনিময়ে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পল্লাপুকুর এলাকায় দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসচালককে আটক করতে গেলে অভিযোগ ওঠে, বেলপুকুর থানার এসআই জহিরুল ইসলাম কৌশলে তাকে সরিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা এসআই জহিরুল ইসলামকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে এবং থানার ওসি মো. আরজুনকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভাইরাল হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিয়ে চালকদের রক্ষা করছে।
নিহত শিক্ষার্থী শান্ত ইসলামের সহপাঠীরা দোষী পুলিশ সদস্যদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।