জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি শক্তিশালী অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, প্রায় দেড় দশক ধরে ওই বোমার ওপর দাঁড়িয়েই স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, নিয়মিত কাপড় ধুয়ে আসছিলেন।
জানা গেছে, রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার একটি পুকুরপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভারী ধাতব বস্তু পড়ে ছিল। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, এটি কোনো পুরনো লোহার জিনিস। ফলে সেটিকে ঘিরেই চলত দৈনন্দিন কাজকর্ম।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “তখন বুঝিই নাই এটা বোমা। সামনে পাখার মতো অংশ ছিল, একটা শেকল আর থালার মতো লকারও ছিল। সেগুলো আমরা ভেঙে ভাঙারির কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।” আরেক বাসিন্দা সিরাজুল হক বলেন, “এত বছর ধরে মানুষ এখানে যাতায়াত করেছে, কাপড় ধুয়েছে, কিন্তু আল্লাহর রহমতে কিছু হয়নি।”
পুলিশ জানায়, প্রায় ১০–১৫ বছর আগে পুকুর সংস্কারের সময় কয়েকজন ব্যক্তি বস্তুটিকে পানি থেকে তুলে পাড়ে রেখে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।
গত বৃহস্পতিবার রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বোমা সদৃশ বস্তুটির ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জাপানি বোমা হতে পারে এবং এতে বিস্ফোরক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। পোস্টটি ভাইরাল হলে স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক পুলিশকে বিষয়টি জানান।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি বড় অবিস্ফোরিত বোমা। বোমাটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে চারপাশ ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যামুনিশন বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেনা সূত্র জানায়, বোমাটির ওজন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩২০ কেজি, দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৯ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস প্রায় ১১৭ সেন্টিমিটার।
বর্তমানে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোমাটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।