পরিত্যক্ত ভবনে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড: গ্রেফতার ‘সাইকো কিলার’ সম্রাট

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

পরিত্যক্ত ভবনে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড: গ্রেফতার ‘সাইকো কিলার’ সম্রাট

ছবি: সংগৃহীত

সাভারের পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত ছয় মাসে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন মশিউর রহমান সম্রাট (৪০) নামে এক ব্যক্তি, যাকে পুলিশ ‘সাইকো কিলার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত নন; বরং ছদ্মবেশে ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাত ইসলাম।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া দুই মরদেহসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে আরও কোনো রহস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না তা জানতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৮ জানুয়ারি ভোর ৩টার দিকে সম্রাট একটি মরদেহ সদৃশ বস্তু পিঠে তুলে পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই ব্যক্তি থানাসহ পরিত্যক্ত পৌর ভবনের আশপাশে ঘোরাফেরা করা ভবঘুরে সম্রাটই।

এলাকাবাসী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মশিউর রহমান সম্রাটকে ওই এলাকায় নিয়মিত ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে অবস্থিত পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিসংযোগের পর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ভবনটি মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১১ অক্টোবর রাতে ভবনের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ এবং ১৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!