সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলিত আবাসভূমি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই মিলেই এ দেশের সমাজ গড়ে তুলেছে। তাই কোনোভাবেই বিভেদ সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি শান্তিময় ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের মাঝে মাসিক সম্মানীর চেক বিতরণ করা হয়। পরে আইবাস সিস্টেমে বাটন চাপার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রমও শুরু করা হয়।

সরকারি এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে। অন্যদিকে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি পাবেন ৩ হাজার টাকা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য উৎসব বোনাসের ঘোষণাও দেন। তিনি জানান, মসজিদে কর্মরতদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বছরে দুইবার এক হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের মসজিদসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব উন্নয়নের জন্যও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

 

Link copied!