মে ২৩, ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবি/ দ্য রিপোর্ট ইলাস্ট্রেশন।
মোবাইল সংযোগ খাতে কর ও নানা আর্থিক বাধা কমানো গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও দ্রুত গতিতে এগোতে পারে বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩৪ সালের মধ্যে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক রাজস্ব আয় প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ইউরোপভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিকস লিমিটেডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ক্যান ইনক্রিজ ইকোনমিক গ্রোথ বাই লোয়ারিং ব্যারিয়ার্স টু ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়, মোবাইল খাতে কর কমালে ডিজিটাল সংযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং ডেটা ব্যবহারও বাড়বে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল খাতে করের চাপ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বেশি। খাতটির মোট আয়ের বড় অংশই বিভিন্ন কর ও ফি পরিশোধে চলে যায়। এর ফলে নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়া এবং সেবার বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিম কর প্রত্যাহার, সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং মোবাইল অপারেটরদের করপোরেট কর হ্রাস করা হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতি পাবে। এতে মোবাইল ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ই-কমার্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গবেষকরা বলছেন, এসব সংস্কার কার্যকর হলে মাথাপিছু জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ও ডেটা ব্যবহারের হারও বাড়বে।
তবে প্রাথমিকভাবে সরকারের কিছু রাজস্ব কমতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডিজিটাল সংযোগ সহজ হলে অর্থনীতির আরও বড় অংশ আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসবে, যা ভবিষ্যতে কর আদায় বাড়াতেও সহায়তা করবে।
গবেষকরা সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১’-এর সঙ্গে এসব সংস্কার যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি শুরুর দিকের সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে একটি কার্যকর আর্থিক রূপান্তর পরিকল্পনা তৈরিরও সুপারিশ করা হয়েছে।