মে ১৮, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। আজ সোমবারপূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা মূল গেট বন্ধ করে রাখেছেন। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেটে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। ডুয়েট ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনেও তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ওইদিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পর জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করেন। পরদিন শুক্রবারও আন্দোলন অব্যাহত থাকে।
শনিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র ব্যানারে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিবির-সমর্থিত ও ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে এর বিরোধিতা করেন। রবিবার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। তাদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, একাডেমিক কাঠামো, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা সম্পর্কে নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে।
উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে স্থানীয় ও ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্রদল এবং শিবির নেতাকর্মীদের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ্যে না এলেও দুই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে রবিবার রাতে ডুয়েটিয়ানদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজকে পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।