ছবি: এএফপি
এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমার জুনিয়রের। ১৬ বছর পর সেই একই মাঠেই শেষ হয়ে গেল ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’
এর মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ হলো নেইমারের ১৬ বছরের রঙিন, আলোচিত ও আবেগঘন এক অধ্যায়।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের পরিসংখ্যানও সমানভাবে উজ্জ্বল। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১২৯টি ম্যাচ, করেছেন ৮০টি গোল—যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। পাশাপাশি ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে রৌপ্য এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে এনে দেন ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক।
ডান পায়ের কাফ ইনজুরি নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নেন নেইমার। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেন, জাপানের বিপক্ষে ছিলেন মাঠের বাইরে।
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোয়ও শুরুতে তাকে বেঞ্চে রাখেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। পরে দ্বিতীয়ার্ধে দল পিছিয়ে পড়লে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার। সেটিই হয়ে থাকে চলতি বিশ্বকাপে তার একমাত্র গোল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮০তম ও শেষ গোল।
তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে রক্ষা করতে পারেনি। নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আগামী ১১ জুলাই শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর।
পেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়েই শেষ হলো ব্রাজিল ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।