জুন ২৯, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: পিএমও
দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের তিস্তা ও পদ্মা নদী নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, এবং সরকার এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর।
তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজে মেগা পরিকল্পনা
উত্তরাঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের দুটি বড় কনসার্ন হচ্ছে পদ্মা ও তিস্তা নদী।’ তিনি আরও বলেন, অতীতে কৃষি ও পানির অধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এবার তা আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ‘জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন পরিকল্পনা
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ ও নতুন ‘কৃষক কার্ড’
প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য একটি বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজ চলছে, যার মাধ্যমে বছরে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে এবং এতে আরও ১০টি সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও ক্রীড়া খাত
চলচ্চিত্র, থিয়েটার, ওটিটি, গেমিং, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল কনটেন্টসহ ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালুর কথাও জানান। আগামী এক বছরের মধ্যে শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’কে স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে একটি নতুন স্পোর্টস সংস্করণ চালুর কথাও বলেন তিনি।
প্রবাসী কার্ড ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ
প্রবাসীদের সুবিধায় ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা জানান তিনি।
জ্বালানি ও শিক্ষা খাতের সংস্কার
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান উপেক্ষা করে বিদেশি নির্ভরতা ও দুর্নীতির কারণে খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে কাজ করছে।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তুলতেই সরকার কাজ করছে, যা ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি হবে।