ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মেক্সিকো। স্বাগতিকদের দাপুটে ফুটবলে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল মেক্সিকানরা।
মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটি শুরু হতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে খেলা বিলম্বিত হলেও মাঠে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ২২তম মিনিটে রবার্তো আলভারাডোর পাস থেকে জুলিয়ান কুইনোনেস দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে পেলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। এরপর ৩১তম মিনিটে রাউল জিমিনেজকে দিয়ে দ্বিতীয় গোল করিয়ে নিজের দ্বিতীয় অবদান রাখেন কুইনোনেস।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইকুয়েডর। কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচে একাধিক পরিবর্তন আনলেও মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি দলটি। বরং স্বাগতিকরাই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা জাগায়। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।
এই জয়ে বিশ্বকাপে আজটেকা স্টেডিয়ামে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে মেক্সিকো। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।
গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে শতভাগ জয় নিয়ে নকআউটে উঠেছিল মেক্সিকো। তিন ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। অন্যদিকে ইকুয়েডর গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছিল।
ম্যাচটিতে ইতিহাস গড়েছেন ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছেন তিনি।
শেষদিকে উত্তেজনা বাড়ে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় অসদাচরণের কারণে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকেপি যোগ করা সময়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
এদিকে মেক্সিকোর সমর্থকরা আশা করেছিলেন, শেষ ষোলোর ম্যাচও আজটেকা স্টেডিয়ামেই খেলবে তাদের দল। তবে সূচি অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।