জুন ৩০, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ছবি: এপি
শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, শিরোপার অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত জার্মানি নাটকীয় টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে।
চারবারের এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হেরেছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে ১–১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে নির্ধারিত হয় দুই দলের ভাগ্য।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই ছন্দ হারাতে শুরু করেছিল জার্মানি। টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এবার অবশ্য শুরুটা ছিল ভিন্ন; দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এক যুগ পর নকআউট নিশ্চিত করেছিল তারা। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের গল্প শেষ ষোলোর বাধাই টপকাতে পারল না।
চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের তৃতীয় ম্যাচেই গড়ায় পেনাল্টি শুটআউট। ইতিহাসে টাইব্রেকারে জার্মানির রেকর্ড ছিল ঈর্ষণীয়—চারবারই জিতেছিল তারা। বিপরীতে, একমাত্র শুটআউট খেলেই জয় পেয়েছিল প্যারাগুয়ে। এবার সেই পরিসংখ্যান বদলে দিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
শুটআউটের শুরু থেকেই চাপে পড়ে জার্মানি। প্রথম শটে কাই হ্যাভার্টজের জোরালো প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল। এরপর মাউরিসিও সফল শটে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে নেন। জার্মানির হয়ে দ্বিতীয় শটে জোশুয়া কিমিখ গোল করলেও গুস্তাভো গোমেজ পেনাল্টি রূপান্তর করে প্যারাগুয়েকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে রাখেন।
তৃতীয় শটে জামাল মুসিয়ালা জার্মানির আশা টিকিয়ে রাখেন, তবে মাতিয়াস গালারজা সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেন। চতুর্থ রাউন্ডে আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন গিল; নিকো ওল্টারমেডের নিচু শট রুখে দেন তিনি। এরপর চতুর্থ শটে জার্মানির হয়ে টাহ-এর সুযোগ থাকলেও তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
নির্ধারণী মুহূর্তে পঞ্চম শটে নাদিয়েম আমিরি গোল করে জার্মানিকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু এরপর ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার শট রুখে দেন জার্মান গোলরক্ষক ন্যয়ার। তবে শেষ সুযোগেও ব্যর্থ হয় জার্মানি—জোসে ক্যানেলের শক্তিশালী শট জালে জড়িয়ে গেলে নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়।
দুইবার ম্যাচ শেষ করার সুযোগ নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত আর ভুল করেনি প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের পথচলা আরও দীর্ঘ করল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।