জুন ২৫, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত এবং ৭ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা এক লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার ঠিক আগে ভেনেজুয়েলার লাখো মানুষ তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের একটি সতর্কবার্তা পান। গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম’ ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে এবং তীব্র ভূকম্পন পৌঁছানোর আগেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায়।
এই প্রযুক্তি বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করে। ফোনে থাকা মোশন সেন্সর ও অ্যাক্সেলেরোমিটার অত্যন্ত ক্ষুদ্র ভূকম্পনও শনাক্ত করতে সক্ষম, যা ভূমিকম্পের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগল ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত করে মূল কম্পন পৌঁছানোর আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
এইচআর অ্যানেক্সির বিওটিএস.এআই-এর পরিচালক নিখার আরোরা বলেন, ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা কতটা উন্নত হয়েছে। গুগল কিন্তু ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং ভূমিকম্পের একেবারে প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করে তীব্র কম্পন শুরু হওয়ার আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
তিনি জানান, অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো একটি বিস্তৃত সেন্সর নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। ফোনে থাকা অ্যাক্সেলেরোমিটার ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন তরঙ্গ বা ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করতে পারে।
আরোরা বলেন, অসংখ্য ডিভাইসে একই ধরনের সংকেত শনাক্ত করার মাধ্যমে গুগলের অ্যালগরিদম ভূমিকম্পের অবস্থান ও মাত্রা নির্ধারণ করে। পরে আশপাশের সব মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠায়।
তার মতে, এই প্রক্রিয়ার ফলে মানুষ কয়েক সেকেন্ড সময় পায়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে, বিপজ্জনক কার্যক্রম বন্ধ করতে বা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই অভিজ্ঞতা শুধু ভূমিকম্প মোকাবিলার ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এনভায়রোকেয়ার ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হৃষিত প্যানথ্রি বলেন, এই ঘটনা দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার এবং সমাজের সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব না হলেও প্রযুক্তির সাহায্যে তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করা যায়। দ্রুততম সময়ে মানুষের কাছে কম্পনের তথ্য পৌঁছে দিয়ে আহত ও নিহতের সংখ্যা কমানো সম্ভব।