ছবি: সংগৃহীত
বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রখ্যাত লেখক, গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
আজ (রোববার) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম।
তিনি জানান, দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গেলে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তিনি মারা যান। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে পরে জানানো হবে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ে তার গবেষণা, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণ বিশেষভাবে সমাদৃত। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা। এছাড়া তার সম্পাদনায় ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার মেয়ে ড. শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাবেক উপাচার্য। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন ছিলেন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর জঙ্গি হামলায় নিহত হন দীপন।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।