মে ২১, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তরুণদের বেকারত্ব ও রাজনৈতিক হতাশাকে ঘিরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে এখন যুক্ত হচ্ছেন বলিউডের পরিচিত মুখেরাও।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি এক শুনানিতে কিছু বেকার তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, জাল ডিগ্রিধারী কিছু ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেই ওই কথা বলা হয়েছিল, তবুও বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পর অভিজিত দিপকে নামের এক তরুণ সামাজিক মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ চালু করেন। শুরুতে এটি ছিল ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের একটি উদ্যোগ। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি বিশাল অনলাইন আন্দোলনের রূপ নেয়। ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে তাদের অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। দলটি নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে।
অনলাইনভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্ম এখন ভারতের তরুণদের ক্ষোভ, হতাশা ও রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষা ও রাজনৈতিক মেরুকরণের মতো বিষয় নিয়ে নিয়মিত ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিচ্ছে তারা। অনেক তরুণই বলছেন, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে এই প্ল্যাটফর্ম অন্তত তাদের বাস্তব সমস্যার কথা বলছে।
এদিকে সিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিউড ও টেলিভিশনের কয়েকজন পরিচিত তারকাও তাদের অনুসরণ করতে শুরু করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মা, দিয়া মির্জা এবং কৌতুকশিল্পী সহ আরও অনেকে এই প্ল্যাটফর্মকে অনুসরণ করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সামাজিক মাধ্যমে লাখো তরুণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। অনেকে এটিকে কেবল মিম বা ব্যঙ্গ হিসেবে দেখলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি ভারতের জেনজিদের ভেতরে জমে থাকা হতাশা ও রাজনৈতিক অনাস্থার একটি নতুন প্রকাশ।