১০ বিলিয়ন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা তুলে নিল ট্রাম্প

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

১০ বিলিয়ন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা তুলে নিল ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়া এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি জালিয়াতির মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

সোমবার (১৮ মে) মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিসের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠিয়ে মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজের আবেদন জানায়।

মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, তারা মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে এবং তাদের প্রসিকিউটোরিয়াল বিবেচনার ভিত্তিতে এই ব্যক্তিগত আসামিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের পেছনে আর কোনো অতিরিক্ত সম্পদ বা সময় ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের জন্য এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, আদানি গ্রিন এনার্জি ভারতের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিয়েছে এবং মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে।

প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, এই প্রক্রিয়ায় আদানি ও তার সহযোগীরা বাজার থেকে ৩ বিলিয়নেরও বেশি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। যদিও শুরু থেকেই এসব অভিযোগ “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে দাবি করে আসছে আদানি গ্রুপ।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, প্রায় ১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক গৌতম আদানি বর্তমানে বিশ্বের ১৭তম ধনী ব্যক্তি। সম্প্রতি তার আইনি দলে যোগ দেন রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়র, যিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিউফ্রা জুনিয়র মার্কিন কর্তৃপক্ষকে জানান যে আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী, যা প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তবে রয়টার্সের একটি সূত্র জানায়, চলমান ফৌজদারি মামলা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে এমন বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলেও আদানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

এদিকে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের আগে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে থাকা আরও কয়েকটি দেওয়ানি ও নিয়ন্ত্রক তদন্তও আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এলপিজি আমদানির অভিযোগ ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানার বিনিময়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ ছিল, আদানি গ্রুপ দুবাইভিত্তিক এক ট্রেডারের কাছ থেকে ওমান ও ইরাকের গ্যাস হিসেবে ইরানি উৎপাদিত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করেছিল। পরে আদানি এন্টারপ্রাইজ ভারতে এলপিজি আমদানি বন্ধ করে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণে একজন প্রধান কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কথিত ঘুষ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাও আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে গৌতম আদানিকে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার এবং তার ভাতিজা সাগর আদানিকে ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে, এসব দেওয়ানি ও আর্থিক সমঝোতার পর মার্কিন বিচার বিভাগ গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং বিনীত জৈনর বিরুদ্ধে থাকা মূল ফৌজদারি জালিয়াতির মামলাটি পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্র: আলজাজিরা

Link copied!