চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যাকবলিত ১ হাজার পরিবারের পাশে আইওএম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যাকবলিত ১ হাজার পরিবারের পাশে আইওএম

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১ হাজার পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণ এবং পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৫০০টি ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে। এসব ত্রিপল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে এবং তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায়, ৫০০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ প্যাকেজ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল এবং একটি ত্রিপল।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত এই ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ ও জীবিকার উৎস হারিয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো এবং পুনরুদ্ধারের পথে তাদের পাশে থাকা। জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মাত্রা বাড়তে থাকায়, আমরা বাংলাদেশ সরকার ও আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা এবং জনগণের সহনশীলতা আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি, অবকাঠামো এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পুনরুদ্ধারের প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপগুলোর একটি।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। আইওএমের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগের কারণে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং বারবার জলবায়ুজনিত দুর্যোগের শিকার হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম অব্যাহত থাকায়, বাস্তুচ্যুতি প্রতিরোধ, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে আইওএম বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতের মানবিক সংকট কমাতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম প্রস্তুতিমূলক (Anticipatory) পদক্ষেপ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাঁশখালী ও পেকুয়ায় পরিচালিত এই জরুরি সহায়তা কার্যক্রম বাংলাদেশে আইওএমের বৃহত্তর দুর্যোগ মোকাবিলা ও জলবায়ু সহনশীলতা কর্মসূচির অংশ। জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি আইওএম দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা, জীবিকা পুনরুদ্ধার, দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ এবং জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজন নীতিতে মানবগত চলাচল (Human Mobility) অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

Link copied!