আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ, সিদ্ধান্ত আলোচনায়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

জুলাই ১৬, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ, সিদ্ধান্ত আলোচনায়

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ঋণ কর্মসূচি চলমান থাকলেও নতুন প্রকল্পে ঋণ পেতে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আইএমএফের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। পুরোনো ঋণের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে।

আরিফ হোসেন খান জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন ঋণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পাঁচ দিনের সফরের শেষ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফের প্রতিনিধি দল। সফরজুড়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, চলমান সংস্কার কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে তারা।

গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে আইএমএফের ১২ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন। সফরের শেষ দিনে পাঁচ দিনের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিনিধি দল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঋণ আলোচনা শুরুর আগে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নীতিগত অবস্থান নির্ধারণে এই সফরের তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এ সময় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রাজস্ব আদায়, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও নিয়োগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, সার ও খাদ্য ভর্তুকির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণ এবং বৈদেশিক অর্থায়নের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আইএমএফ তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। পাশাপাশি কোন কোন খাতে কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, তাও ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

Link copied!