‘বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য’ ৩ বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা পুনরায় হবে: শিক্ষামন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

‘বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য’ ৩ বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা পুনরায় হবে: শিক্ষামন্ত্রী

টানা বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো না হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ ঘোষণা দেন এহছানুল হক মিলন।

এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টির মধ্যে সোমবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামে।

বিকেলে জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আলোচনার সময় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবির প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, সংসদের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দাবিগুলো দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গতকালকে যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা—এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি। এই ধরনের কমপ্লেইন এসেছে।’

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় দিতেই হবে। এই ক্ষেত্রে আমরা ভেবে চিন্তে দেখেছি যে, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষা আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে যখন আমরা নিতে যাব—ফিজিক্স, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান—সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

শিক্ষামন্ত্রীর যে বক্তব্যের জেরে শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, সেই বক্তব্যের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

মিলন বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্য আমি কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

Link copied!