মৌলভীবাজারে মনু-ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙন, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১০, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

মৌলভীবাজারে মনু-ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙন, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এদিকে ঢলের পানিতে ডুবে রাজনগর উপজেলায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় আজ (শুক্রবার) মনু নদীরক্ষা বাঁধের রাজনগর উপজেলার একামধু এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। এর ফলে মনু নদীর রাজনগরের উজিরপুর ও একামধু এবং কুলাউড়া উপজেলার শিকরিয়াসহ মোট তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। বাঁধের এসব উন্মুক্ত স্থান দিয়ে দ্রুতগতিতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

এর প্রভাবে রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার টেংরা ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ইসলামপুর, আদমপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ গবাদিপশু নিয়ে মনু নদীর বাঁধে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

সরেজমিনে মনু নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় পানির প্রচণ্ড চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙনের পরিধিও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অন্তত ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম মনু নদীর উজিরপুর এলাকার ভাঙন পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তাদের সহায়তায় ৯১৫ ব্যাগ শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া ঢলের পানিতে ডুবে আকুয়া গ্রামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

Link copied!