খামেনির শেষ বিদায়ে আমেরিকা ধ্বংসের স্লোগান

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ৪, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

খামেনির শেষ বিদায়ে আমেরিকা ধ্বংসের স্লোগান

ছবি: সংগৃহীত

ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু, অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। শনিবার শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠানে হাজারো মানুষ অংশ নেন। কফিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেককে লাল পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। সমাবেশে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও শোনা যায়। ইরানে লাল পতাকাকে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের স্পিকার, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আর্মেনিয়া, তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শোকানুষ্ঠানে অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় সম্পৃক্ত কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খামেনির মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। কফিন ঘিরে উপস্থিত জনতা প্রার্থনা ও শোকগাথায় অংশ নেন। বিপুল জনসমাগমের কারণে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের জন্য পরিবহন, খাবার ও থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশা, আগামী কয়েক দিনে লাখো মানুষ এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ কুম, নাজাফ ও কারবালাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে নেওয়া হবে। পরে তাকে মাশহাদে দাফন করা হবে।

এদিকে শোকানুষ্ঠানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান কেবল একজন ধর্মীয় নেতার বিদায় নয়; বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় শক্তি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনসমর্থনেরও একটি বড় প্রদর্শন। একই সঙ্গে খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

Link copied!