জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক যুবলীগ নেতাকে পুলিশ আটকের পর তাকে মুক্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান নিয়েছেন কয়েকশ গ্রামবাসী। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার পর ওই নেতাকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন যুবলীগের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি।
স্থানীয়দের দাবি, টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন একটি খাসজমি ও সেখানে গড়ে ওঠা ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছিলেন ইউনুস সরকার। পরে গ্রামবাসী ঘরটি সরিয়ে সেখানে মাছের বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড চালু করেন। এ ঘটনায় ইউনুস সরকার জায়গাটির মালিকানা দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
রিপন সরকারের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী থানার সামনে জড়ো হয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের থানা চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।
এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।”
পরে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচজনকে নিয়ে থানার ওসির কক্ষে বৈঠক হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে স্থানীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপর প্রতিনিধিদল তাকে নিয়ে গ্রামে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে ওসি সাকিউল আজম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপন সরকারকে থানায় আনা হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় এবং স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।