জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ছবি: সংগৃহীত।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ আপাতত জাতিসংঘের ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রবাল ব্লিচিংয়ের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো)।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, কুইন্সল্যান্ড উপকূলজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই প্রবালপ্রাচীরের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদা বহাল রাখার সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো। সংস্থাটির খসড়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
২০২১ সাল থেকেই ইউনেস্কো নিয়মিতভাবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। সে সময়ই সংস্থাটি সতর্ক করেছিল, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে এটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
প্যারিসে প্রকাশিত ইউনেস্কোর সর্বশেষ খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পানির মান উন্নয়ন, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি পরিষ্কার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ সালে প্রবালপ্রাচীরজুড়ে শক্ত প্রবালের আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সমুদ্রের অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ২০১৬ সালের পর এটি ষষ্ঠবারের মতো বড় আকারের প্রবাল ব্লিচিংয়ের শিকার হয়েছে।
ইউনেস্কোর মতে, চরম আবহাওয়া, দূষিত পানির প্রবাহ, উপকূলীয় উন্নয়ন এবং ‘ক্রাউন-অব-থর্নস’ স্টারফিশের আক্রমণও প্রবালপ্রাচীরটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
সংস্থাটি বলেছে, প্রবালপ্রাচীর এখনো কিছুটা সহনশীলতা দেখালেও বারবার এমন সংকটের পর পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
গত বছর অস্ট্রেলিয়া সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় আইন আরও কঠোর করে এবং প্রবালপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় বন উজাড় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। তবে ইউনেস্কো ড্রেজিং এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান মেরিন কনজারভেশন সোসাইটির ক্যাম্পেইন ম্যানেজার লিসা শিন্ডলার বলেন, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রতি বছর দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অবদান রাখে এবং প্রায় ৭৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। তাই এটিকে রক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ইউনেস্কোর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২০২৮ সালে নতুন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।