জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
ভোজিনহা, ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে জয়টা শেষ পর্যন্ত গেছে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে। কিন্তু মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম থেকে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। লিওনেল মেসির একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলে সবসময় বড় নামই শেষ কথা নয়।
ম্যাচের আগে কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস বলেছিলেন, “ফুটবল মাঠে পরিসংখ্যান বা বড় নাম কোনো বিষয় নয়।” দলের গোলরক্ষক ভোজিনহা যেন মাঠে সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ দেন।
রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কেপ ভার্দে। কিন্তু পুরো ম্যাচজুড়ে লিওনেল মেসির চারটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন ভোজিনহা।
ম্যাচের শুরুতে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। পরে কেপ ভার্দে সমতায় ফিরলে শুরু হয় মেসি ও ভোজিনহার রুদ্ধশ্বাস লড়াই।
৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে মেসির শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন ভোজিনহা। ৭৩তম মিনিটে মেসির বাঁকানো ফ্রি-কিক আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি।
যোগ করা সময়ে মেসির দ্রুত নেওয়া নিচু ফ্রি-কিকও নিরাপদে ধরে ফেলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। অতিরিক্ত সময়েও ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির আরেকটি জোরালো শট ডাইভ দিয়ে প্রতিহত করেন তিনি।
ভোজিনহার লক্ষ্য ছিল ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়া। সেখানে মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নও দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ১১১তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে আসা বলে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড ঠেকাতে গিয়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বার্গেস আত্মঘাতী গোল করলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জিতলেও কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন ভোজিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ইনস্টাগ্রামে রাতারাতি তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৭০ লাখ (১৭ মিলিয়ন) ছাড়িয়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে কেপ ভার্দের বিদায় হলেও, লিওনেল মেসির বিপক্ষে ভোজিনহার এই অবিস্মরণীয় গোলকিপিং চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হয়ে থাকবে।