ছবি: সংগৃহীত
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের একটি গ্রামে বন্যার পানিতে একটি সাপের খামার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে বিষধর গোখরাও রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে গুয়াংজি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ এলাকার একাধিক জলাধারে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্ক্রিনশটে দাবি করা হয়, হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের একটি সাপের খামার বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়, বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ভুগছেন।
দেংওয়েই গ্রামের কমিটির প্রধান উ ঝি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রেড স্টার নিউজকে জানান, ঘটনাটি ঘটে ৬ জুলাই সকালে। তার ভাষ্য, প্রাথমিক হিসাবে খামারটি ভেসে যাওয়ার পর ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উ ঝি বলেন, পালিয়ে যাওয়া সব সাপ বিষধর নয়। এর একটি বড় অংশ বিষহীন জলসাপ।
ইউনবিয়াও টাউনশিপের শেন পদবিধারী এক বাসিন্দা জানান, ওই এলাকায় নিচু জমি ও পাহাড়ি ঢাল—উভয় স্থানেই সাপের খামার রয়েছে। লিউলান ও ইউনবিয়াও জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নিচু এলাকার কয়েকটি ছোট সাপের খামার প্লাবিত হয়েছে। ফলে সেখান থেকে বিপুলসংখ্যক সাপ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন। তবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে থাকায় তারা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেননি।
স্থানীয় সাপচাষি লেই জানান, তার খামারটি উঁচু স্থানে হওয়ায় বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় খামারগুলোতে মূলত গোখরা, কিং র্যাট স্নেক ও জলসাপ পালন করা হয়। এর মধ্যে শুধু গোখরাই বিষধর।
তার ধারণা, নিচু এলাকার ছোট ছোট খামার থেকে বিপুলসংখ্যক সাপ পালিয়ে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক সাপ মারা যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর এক কর্মকর্তা জানান, একটি সাপের খামার ধ্বংস হওয়া এবং কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন কোনো অগ্রগতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত পরে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, দেংওয়েই গ্রামের প্রধান উ ঝি জানান, ঘটনার পর আশপাশের বন্যামুক্ত গ্রামের এক ডজনের বেশি বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি সাপ ধরার দল গঠন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছেন।
উ ঝি বলেন, দলটির সদস্যরা মাছ ধরার সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক মাছ ধরার যন্ত্র ব্যবহার করে সাপ ধরছেন। তার ভাষ্য, অধিকাংশ সাপ ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বর্তমানে অল্প কিছু সাপ ভাসমান আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষে অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর বেশির ভাগই বিষহীন জলসাপ।
তিনি আরও জানান, গ্রামবাসীদের সতর্ক করে ইতোমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যাদের সাপ ধরার পেশাদার দক্ষতা নেই, তাদের সাপ ধরার চেষ্টা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো বাসিন্দা বাড়িতে সাপ দেখতে পেলে দ্রুত গ্রাম কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষিত কর্মীরা নিরাপদে সাপ উদ্ধার করতে পারেন।