ময়মনসিংহে মিন্টু হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ময়মনসিংহে মিন্টু হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ (বুধবার) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও পলাতক মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। রায় ঘোষণার সময় ফরিদ খলিফা আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে মাসুদ মিয়া পলাতক ছিলেন। মামলার এজাহারে মাসুদ মিয়া ১ নম্বর এবং ফরিদ খলিফা ৫ নম্বর আসামি ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আবদুল মতিন (৪৫), তার বাবা আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী (৬৮), মো. মোশারফ হোসেন (৫৮), মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮), তার ভাই মো. তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), মো. নজরুল মিয়া (৪৩), মো. মোকলেছুর রহমান (৫৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮), তার ভাই মো. আতিকুল (৩৯) এবং পলাতক মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আবু জাকারিয়া (মিন্টু) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি ভালুকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিলেন।

ঘটনার দিন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দেখভাল করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লতিফা খাতুন বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ১২ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় ১২ আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি পলাতক ছিলেন।

মামলায় বাদীপক্ষে শুরু থেকে আইনজীবী রাশেদা তাহমিনা এবং রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আকরাম হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিপি মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দলিল লেখককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, আশা করবো দ্রুত যেন এ রায় কার্যকর হয়।’

তিনি আরও বলেন, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সাক্ষ্যপ্রমাণে হত্যাকাণ্ড সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় নিহতের স্ত্রী লতিফা খাতুন ও ছেলে জাহিদ হাসান তালুকদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জাহিদ হাসান তালুকদার বলেন, ‘আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার আব্বুকে নৃশংসভাবে খুন করে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর আজকে মামলার রায় হলো। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমরা চাই যে দুজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, সে রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’

তবে রায়ের পর আসামিদের স্বজনরা দাবি করেন, তারা ন্যায়বিচার পাননি। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আতিকুলের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না, এ রায় আমরা মেনে নিতে চাচ্ছি না। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৩ বছর পর একটি হত্যা মামলার দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনের যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আদালত। আদালতে ১০ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

Link copied!