জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টিকিটের টাকা নিয়েও সেবা না দেওয়ার অভিযোগ, সিআইডির মামলায় ৭ জন আসামি
অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি) এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে বিমান টিকিটের অগ্রিম টাকা নিয়ে নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা চালু করে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি দুটি নামেই ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করত।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই টাকা নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম গত বছরের ১ আগস্ট দেশত্যাগ করেন।
সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ অন্য হিসাবগুলোতে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও লেনদেনের তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশ ছাড়ার পরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও অর্থ বিভাগের প্রধান বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট আইএটিএ অনুমোদিত বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু গ্রাহকের কাছ থেকে পুরো মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
সিআইডির ভাষ্য, প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্ত সিআইডি পরিচালনা করছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।