জুলাই ১৫, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর সংযোগ সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া এক কলেজছাত্রীকে প্রায় তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। নদীর স্রোতে ভেসে তীরে পৌঁছানোর পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমারখালী-যদুবয়রা এলাকার গড়াই সেতুতে ঘটনাটি ঘটে।
উদ্ধার হওয়া শরমিলা খাতুন (২১) কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আশিকুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় শরমিলা তার স্বামীর সঙ্গে সেতুতে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনার পর আশিকুর কিছু সময় ঘটনাস্থলে থাকলেও পরে সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে নদীতে অনুসন্ধান শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুলগ্রাম এলাকার কাছে নদীর তীরে শরমিলাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে দ্রুত তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
শরমিলার দুলাভাই রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের তৎপরতার কারণেই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং খুলনা থেকে ডুবুরি দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে ডুবুরি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সময় তার স্বামী ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরে সেখান থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেন ওই শিক্ষার্থী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।