মে ২১, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রামিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আসামি গ্রেফতার হয়েছে। এই মামলায় যে প্রধান আসামি তার নাম সম্ভবত সোহেল খান। স্ত্রীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় স্টেটমেন্ট দিয়েছে। আমরা এটুকু এসিওরেন্স দিতে পারি, আমাদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে সুষ্ঠু তদন্ত করে চারশিট দাখিল করা হবে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার চেষ্টা করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্নের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া যায়, তবে সাজা নির্ধারণ আদালতের বিষয়।
তিনি বলেন, বিচারের দায়িত্ব আদালতের বিচারহীনতার যে বিষয়টা সবাই সবসময় বলে থাকে, এটা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয়। সে জন্য মানুষ মনে করে হয়তো বিচার পাবে না। কিন্তু এই জাতীয় ক্রাইমগুলো আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেখেছি। আমি তাদের কৃতিত্ব দিতে চাই, সেই সময়েও এই জাতীয় কয়েকটা ঘটনা হলে হেনিয়াস ক্রাইমের সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে আইনি ব্যবস্থা বিচারিক ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে আমি এইটুকু এসিওরেন্স দিতে পারি, সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে একটা দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন হবে। সাজার কথা আমি বলতে পারবো না।
আইন ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক সমাজে আইন সবসময় আপডেট করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে হঠাৎ করে আবেগের বশে নতুন আইন বা দ্রুত বিচার কাঠামো তৈরি করা সবসময় সঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন মধ্যযুগে নাই। আমরা আধুনিক যুগে, আইন সংস্কারটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। সমাজের চাহিদা অনুসারে সব আইনকে আপটুডেট করতে হয় এবং যুগোপযোগী করতে হয়। সেগুলো চলমান প্রক্রিয়া। সেগুলো তো আছেই। বিভিন্ন আইনে অবশ্যই আমাদের কিছু কিছু সংশোধন আনতে হবে। সেটা আমরা দেখবো। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাও চিন্তা করতে হয়, খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে আবার অবিচার করা হচ্ছে কিনা বা এমন কিছু হয় যে আমরা খুব কঠোরতম আইন প্রয়োগ আইন প্রণয়ন করলাম প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেটা আবার মিসইউজ হচ্ছে কিনা অপব্যবহার হচ্ছে কিনা এগুলো সবগুলো লক্ষ্য রাখতে হয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে আইনগত কাঠামো বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তিনি বলেন, এখন কোনও ঘটনা ঘটলো সে জন্য একটা চটজলদি করে আইন প্রণয়ন করে ফেলা এবং কোনও আদালত সৃষ্টি করে ফেলা এগুলো ইমোশনালি করা যায় না। এটা বৃহত্তর ক্যানভাসে দেখতে হয়। যেমন-মাগুরাতে একটা ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এটা নিয়ে তোলপড় হলো এবং এখানে বোধহয় কিছু আইনি সংশোধন নিয়ে এসে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। এটা সময়ের দাবি ছিল। কিন্তু সেটার দীর্ঘমেয়াদে কী হবে না হবে, সে আইনগুলো চিন্তা করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, শিশু ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল বা আদালত গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান নারী ও শিশু আদালতের সক্ষমতা বাড়ানোও একটি বিকল্প হতে পারে, কারণ নতুন আদালত স্থাপন করলে জনবল ও ব্যয়ের বিষয়ও জড়িত থাকে।
তিনি আরও বলেন, শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলো, একটা ট্রাইব্যুনাল করা হল। দেখা গেলো, সেই একই এখতিয়ার নারী ও শিশু আদালতে দেওয়ার মতো বিধান করা যায়, আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি না করেও। কারণ এখানে রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচারের বিষয় আছে। আদালত সেটআপের করার বিষয় আছে, জনবলের বিষয় আছে। তখন দেখা যাবে যে ৬৪ জেলায় আদালত আমরা করলাম। ক্রাইম করলাম, দেখা যাবে মামলার সংখ্যা কোথাও দুইটা কোথাও ১০টা, কোথাও নাই। এগুলো সব বিবেচনায় নিয়ে যেভাবে মানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। সেভাবে এগুলো আবার করা যায়।
অপরাধ দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী ও চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং পুলিশ সক্রিয়ভাবে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করছে।
তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যেসব বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় কিছু অপরাধ আছে, সেটা অপরাধ কমানোর জন্য প্রোক্টিভ কাজ করি আমরা। যেমন-মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযান চলছে। এটা হলো, অনেকটা প্রোঅক্টিভ, যাতে অপরাধগুলো কম হয়। কিন্তু এই জাতীয় অপরাধগুলো ধর্ষণ হত্যায় এগুলো হচ্ছে সংঘটিত হওয়ার পরে পুলিশের যে অক্টিভিটিস করণীয় সে বিষয়ে আমি বলতে পারি। আমরা দায়িত্বে আসার পর এ পর্যন্ত যতগুলো হেনিয়াস ক্রাইম এই জাতীয় রয়েছে আপনারা কি কেউ একটা ক্রাইমের ক্ষেত্রেও বলতে পারবেন, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে তারা অ্যারেস্ট করতে পারেনি। একটাও নেই। আমার কাছে তালিকা সবগুলো আছে। যদি তার ব্যতয় কিছু হয়ে থাকে আপনারা প্রশ্ন তুলতে পারবেন।