মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন হাসানুল হক ইনু।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আনা হয়। এরপর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-২-এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিবরণের কিছু অংশ তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগেও এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় কার্যত তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

এর আগে ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার, ১৪ দলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশনা, এবং আন্দোলন দমনে উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও একাধিক অডিও-ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

Link copied!