অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিস্ফোরক উপকরণের সংকটে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়া। ছবি: ইউএনবি
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিস্ফোরক উপকরণের সংকটে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ায় আবারও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে পৌঁছালে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি এম জোবায়েদ হোসেন জানান, থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি করা হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এসব উপকরণ আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, খনির অভ্যন্তরে পাথরের স্তর ভাঙতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। খনিতে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক লাগে, যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সরকারি নানা নিয়মনীতি অনুসরণ করায় আমদানি প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হয়।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিস্ফোরক সংকটে একাধিকবার খনিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর আগে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাথর উত্তোলনের স্বার্থে আগে বিস্ফোরক আমদানির দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে এবং ওই সময়ে বিস্ফোরকের অভাবে এক দিনও উৎপাদন বন্ধ হয়নি।
তবে গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিস্ফোরক আমদানি শুরু করে। সময়মতো আমদানি করতে না পারায় গত ৯ মাসে এ নিয়ে দুই দফা পাথর উত্তোলন বন্ধ হলো।