ছবি: সংগৃহীত
কার্লো আনচেলত্তির কণ্ঠে উচ্চারিত হলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত নাম—নেইমার জুনিয়র। আর তাতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল পুরো ব্রাজিল। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ব্রাজিলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মিউজিয়াম অব টুমোরোর হলরুমে বিশ্বের ১৩টির বেশি দেশের ৭০০-র বেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। যদিও পুরো আয়োজনজুড়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শুধু নেইমার।
গত সপ্তাহে ৫৫ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলেন আনচেলত্তি। সেখান থেকে একে একে ২৬ জনের নাম ঘোষণা করতে গিয়ে ২২তম নামের পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আনচেলত্তির মুখে নেইমারের নাম শোনামাত্র হলরুমে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর মেনিসকাস চোটে পড়েন নেইমার। সেই চোটে এক বছরের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। পরে সৌদি ক্লাব আল হিলালে ফিরে এলেও মাত্র দুই ম্যাচে ৪২ মিনিট খেলে আবারও চোটে পড়েন তিনি।
চোটের সঙ্গে লড়াই করতে করতে শেষ পর্যন্ত গত বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান নেইমার। সেখানে গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ১১ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেন তিনি এবং দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এর মধ্যেই ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন আনচেলত্তি। তবে তার অধীনে প্রথম ১০ ম্যাচে দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। আলোচনা শুরু হয়, বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় আদৌ কি নেইমার আছেন? যদিও আনচেলত্তি বারবার বলে আসছিলেন, নেইমারের জন্য বিশ্বকাপের দরজা খোলা, তবে তাকে ফিট থাকতে হবে।
দল ঘোষণার আগের দিনও নতুন চোটের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল নেইমারকে ঘিরে। করিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে চতুর্থ রেফারির ভুলে দ্বিতীয়ার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর সান্তোস কোচও জানান, নতুন করে চোটে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
তবু সব শঙ্কা দূর করে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার। তাকে নিয়েই ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামছে সেলেসাওরা।
গোলকিপার: আলিসন, এদেরসন, ওয়েভারতন।
ডিফেন্ডার: আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমের, দানিলো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল, রজার ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস, ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনিও, লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ইগর তিয়াগো, লুইস এনরিকে, মাতেউস কুনিয়া, নেইমার, রাফিনিয়া, রায়ান এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।