মে ১২, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
গত মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই আরব আমিরাত গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগার ছিল এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলোর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শুরুর দিকে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় ওই শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। এতে সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে এবং স্থাপনাটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এর জবাবে ইরান ইউএই ও কুয়েতের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সূত্রগুলোর একটির দাবি, যুদ্ধে আমিরাতের এই সম্পৃক্ততাকে যুক্তরাষ্ট্র নীরবে স্বাগত জানিয়েছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় আরব আমিরাতে বেশি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলকেও ছাড়িয়ে উপসাগরীয় এই দেশটির ওপর দুই হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এসব হামলার প্রভাব আরব আমিরাতের অর্থনীতিতেও পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক ছুটির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন উপসাগরীয় কয়েকজন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা বলেন, আরব আমিরাত এখন ইরানকে এমন এক ‘বেপরোয়া শক্তি’ হিসেবে দেখছে, যে দেশটি প্রবাসী দক্ষ জনশক্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আমিরাতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো দুর্বল করতে চায়।
এদিকে হামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু জানায়নি। তবে তারা আগের এক বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে আবুধাবির বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে বলে বলা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দীনা এসফানদিয়ারি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, উপসাগরীয় কোনও আরব দেশ সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে— এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এখন তেহরান চেষ্টা করবে আরব আমিরাত ও যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা অন্যান্য উপসাগরীয় আরব দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে।