মন্ত্রী না হলে সাক্ষাৎ নয়, দিল্লিকে নেপালি প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মন্ত্রী না হলে সাক্ষাৎ নয়, দিল্লিকে নেপালি প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ | ছবি: সংগৃহীত

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির পূর্বনির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুই দিনের সফরে তার নেপালে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভারতের পক্ষ থেকে ‘অন্যান্য ব্যস্ততা’র কারণ দেখিয়ে সফরটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের নতুন সরকারের অবস্থান এবং সীমান্ত ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনাই এ সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

কাঠমান্ডুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অচলাবস্থার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের নিচে কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন না। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরর সঙ্গেও একই কারণে সাক্ষাৎ করেননি তিনি।

দ্বিতীয়ত, তিব্বতের মানসসরোবর যাত্রার জন্য বিবাদপূর্ণ লিপুলেখ গিরিপথ ব্যবহারে ভারত ও চীনের সাম্প্রতিক সমঝোতায় ক্ষুব্ধ নেপাল। দেশটি এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

গত এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের পর বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আশা করা হয়েছিল। তবে ১৮১৬ সালের সুগৌলি সন্ধি অনুযায়ী লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অংশ দাবি করে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর পাউডিল ছেত্রী গত শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, এ অবস্থানের বিষয়ে ভারত ও চীন উভয় দেশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৫৪ সাল থেকে চলে আসা মানসসরোবর যাত্রার বিষয়ে নেপালের ‘একতরফা’ দাবি ভারত মেনে নেবে না। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক নেপালি রাষ্ট্রদূত বিজয় কান্ত কর্ণ এই সফর স্থগিত হওয়াকে নেপালের জন্য কৌশলগত ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। কারণ, সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছে দেওয়া। তবে এখনই একে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

আগামী ১ জুন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালর দিল্লি সফরের সূচি এখনো বহাল রয়েছে। সেখানে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নেপালে পেট্রোলিয়াম পণ্য ও রাসায়নিক সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ভারত আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

Link copied!