মে ১২, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ একাধিক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন পক্ষের করা পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ইতোমধ্যে বহাল থাকার পর এবার আরও দুই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। এতে আপাতত তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই দিনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এছাড়া ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক একটি পৃথক মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় রুল জারি করে। গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ চার মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও জামিন পান তিনি।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও ২৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তা খারিজ করে দেয়।
তবে এর মধ্যেই নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়—জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার হত্যা মামলা। ওই দুই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি আবারও হাইকোর্টে আবেদন করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ এই জামিনাদেশ দেওয়া হলো।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। তিনি ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। পরবর্তীতে তিন দফায় তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।