মে ১৯, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোর ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ক্ষতি ও ব্যয়ের পরিমাণ অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে রয়টার্স। এতে দেখা গেছে, জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতার কারণে উৎপাদন ও বাণিজ্য কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর তেহরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ করে। অথচ বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
ফলে গত আড়াই মাসে বিশ্ব বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তত ২৭৯টি প্রতিষ্ঠান বাড়তি লোকসান সামাল দিতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। কেউ পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, কেউ গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপিয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারের সহায়তাও চেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত না হলে সামনে বৈশ্বিক বাজারে আরও বড় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনাতেও এই নৌপথকে ঘিরে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও পণ্যের দাম আরও বাড়বে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্প ও ভোক্তা বাজারে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।