ছবি: সংগৃহীত
উত্তর চীনের শানসি প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীনে গত এক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৩ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার একটি খনি ধসে ৫৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে,উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোদমে চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ৯ জন খনিশ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং খনির ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
এর চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শানসি প্রদেশের চাংঝি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনির ভেতরে ক্ষতিকারক কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের সময় খনির ভূগর্ভে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শনিবার সকাল ৬টার মধ্যে অন্তত ২০১ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা উদ্যোগ নিলেও কয়লা এখনো চীনের প্রধান জ্বালানি উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা হয় কয়লা থেকে।
দুর্ঘটনাকবলিত শানসি প্রদেশ চীনের অন্যতম প্রধান কয়লা উৎপাদন কেন্দ্র। তবে এখানকার খনি শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। অতীতে একই ধরনের অসতর্কতা ও নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে এই অঞ্চলে বহু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে খনি কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং বিস্ফোরণের মূল কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।